বাংলাদেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মতো নীরব এক সংকট বাংলাদেশে ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে তিন কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হন, যা পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে।

তবে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত সীমিত। দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন, অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য গড়ে ২–৩ জন। ফলে অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়েই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তুলনামূলকভাবে United Kingdom-এর মতো দেশে হাজার হাজার সাইকিয়াট্রিস্ট কাজ করছেন, যা জনসংখ্যা অনুপাতে অনেক বেশি উন্নত ব্যবস্থা নির্দেশ করে।

এদিকে সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সমাজের একটি বড় অংশ এখনও মানসিক রোগকে অলৌকিক বা অশুভ প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করে। এর ফলে অনেকেই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পরিবর্তে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ কিংবা ভণ্ড ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন। এসব পদ্ধতি কেবল অকার্যকরই নয়, বরং রোগের অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক রোগও শারীরিক রোগের মতোই বাস্তব এবং এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ চিকিৎসা ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ মানসিক রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কুসংস্কার দূর করার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

Related Posts